বেদুঈনটি আছে লক্ষ্মীটি!
শুনো আফ্রোদিতি,
অস্তিত্বহীন হওয়া সত্ত্বেও এই আমি টি আমৃত্যু তোমার পাশে থাকবো লক্ষ্মীটি! আমি বাসবো তোমাকে ভালো, আমৃত্যু বাস করবো তোমার ভালোর মধ্যে যেমনি শত চাপা কষ্টের মাঝেও করেছিলাম বিগত অর্ধযুগ ধরে।
তোমার কাল্পনিক জগৎ, তোমার বাস্তব জগৎ, তোমার রুপকথার জগৎ, প্যারালাল ইউনিভার্সে, তোমার প্রত্যেকটি জগতে আমি থাকবো সন্ধ্যাতারা হইয়্যে। আমি তোমায় ভালোবাসবো খুব লক্ষ্মীটি,খুউউউব!
হেমলতা,
তুমি সূর্য হয়ে গেলে আমি পৃথিবী হবো।তোমায় কেন্দ্র করে ঘুরবো আমি হরদম-হারহামেশা।
শ্রেয়সী,
তুমি কোনো গুপ্তধনের মতো থাকবে আমার অন্দরে গোপন আজন্ম অথচ তুমি জেনেও জানবে না :')
আমি তোমায় লুকিয়ে রাখবো আমার চোখের কর্ণিয়ার ভেতর আজন্ম, ধীরে ধীরে চোখের জলের ভেতর ভেসে থাকতে থাকতে তুমি হয়ে উঠবে সেখানে নীলপদ্ম।
ভাসতে ভাসতে যদি ওখান থেকে যদি তুমি নিখোঁজ হও, আমি তাবৎ পৃথিবী তন্নতন্ন করে খুঁজে এনে তোমায় গুঁজে রাখবো আমার হৃদয়ের বাঁ পাশে। যদিও তোমার স্মৃতিতে আমার করোটিকা আজ বিপন্নপ্রায়!
আমি থাকবো লক্ষ্মীটি!
তোমার দৃশ্যমান অপলা পৃথিবী থেকে অনন্ত নক্ষত্রবীথির প্রতিটি অঞ্চল জুড়ে। আমি বেড়ে উঠবো স্বর্ণালতার মত রঙহীন বাড়ির দেয়াল বেয়ে, তোমার রুমের পিংকিশ দেয়াল বেয়ে, রক্তিম সিড়ি হয়ে জানালা বেয়ে শীতের রাত্রিরের কুয়াশায়।
কুঁচিকুঁচি হরিৎ উপত্যকার সবুজ পাতার ফুলে ফুলে ঘ্রাণ হয়ে থাকবো। আমার শেঁকড় থাকবে তোমার উঠোনে। তুমি বরং জল দিও লক্ষ্মীটি।
ঊর্মিমালা,
আমি থাকব তোমার পবিত্র হাতের গোটা দশেক আঙুলে ফাঁক বোজা খুঁনসুটিতে। যিশুখ্রিষ্টের মতো আমি ঝুলে থাকব লকলক করে তোমার নাকের নথেঁর মাঝে। তোমার গালের বা'পাশের টোল পড়া গর্তের মাঝে আজন্মকাল...
আমি থাকবো তোমার স্মৃতিতে, তোমার গীতিতে, তোমার স্বভাবে, তোমার অভাবে। আমি তোমার কাছে নিজেকে ফেলে রাখবো অগুছালো বই-খাতার মত, তুমি আমায় পড়িও। মুখস্ত করিও লক্ষ্মীটি!
এইতো আমি আছি,
আমি থাকবো তোমার পড়ন্ত বৈকেল বেলার পুকুরপাড়ের ছাঁয়াতে, গোধূলি সন্ধ্যার মায়াতে। আমি থাকবো তোমার মাঝ রাত্তিরের আদরে, আমি থাকবো তোমার নিপাট সংসারে। আলমারিতে তোমার তুলে রাখা চায়ের কাপ কিংবা প্লেটের মত আমায় তুমি সাজিয়ে রেখো, কৃষ্ণকালো অথবা লাল শাড়ির মত গুছিয়ে রেখো লক্ষ্মীটি!
আমি থাকবো তোমার ডায়েরির লেখার খাতাতে, তোমার হাতের রেখাতে। তোমার গানের সুরেতে, তোমার কবিতার ছন্দতে। আমি থাকবো তোমার জলের গেলাসে, চায়ের কাঁপেতে। আমি থাকবো তোমার ছাদনাতলার দোলনায়।
শীতের প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহে জানালা খুলে চাঁদনি রাতে তুমি চায়ের কাপ হাতে এসে বসিও অবসরে আমার কাছে। আমি হিমেল হাওয়া হয়ে জানান দিব আমি এসেছি...
❝এইতো লক্ষ্মীটি! এইতো আমি বাতাস হয়ে এসেছি তোমার কৃষ্ণকালো কেশের সুঘ্রাণ নিতে, এসেছি তোমাকে শীতল করতে।❞
আমি আছি লক্ষ্মীটি!
আমি থাকবো তোমার ঘ্রাণে, জানালার বাদামী পর্দায়, হাওয়াতে, মায়াতে, বিছানায়। আমি থাকবো তোমার চাদরে, ড্যানিম জ্যাকেটের আদরে, রাঙ্গা শুষ্ক শুষ্ক ঠোঁটে, গুলুমুলু গালে, চিবুকের তীলে, চোখের কাঁজলে, চুমুতে, সঙ্গমে।
পৃথিবী একটা দৃশ্যমান নরক। তোমার বুকে আমায় ঠাই দিও লক্ষ্মীটি!
আমি থাকবো তিলোত্তমা!
আমি থাকবো তোমার টোলপরা খিলখিল হাসিতে, আনন্দে, বিষন্নতায়, বেদনায়। আমি থাকবো তোমার সবজি কাটতে গিয়ে ফর্সা আঙুল কেটে ফেলা অসাবধানতায়, উনুনের ডিম ভাঁজা কিংবা চা বানাতে গিয়ে পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে পরজীবী ব্যাকটেরিয়া হয়ে।
বিলে রাখা জলের গেলাস ছুঁড়ে কপালে আলু তুলে দেয়া তীব্র রাগে, হুটহাট গাল ফুলিয়ে অভিমানে, কুঁচকুঁচি করে ছেঁড়া কাগজের অস্পষ্ট অভিমানে। আমি থাকবো তোমার ঝরঝর করা কিংবা মাথা নুইয়ে বিষন্ন কান্নায়। আমায় তুমি তোমার চোখের জল মুছতে দিও লক্ষ্মীটি। কিঞ্চিৎ অধিকার দিও।
আমি থাকবো তরঙ্গিণী!
আমি থাকবো তোমার অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতিতে। তোমার প্রত্যেকটা যৌক্তিক-অযৌক্তিক তর্কের মাঝে, জীবন সংগ্রামের চিৎকারে, দিক্কারে, বিপ্লবে, প্রতিবাদে।
আমি থাকবো তোমার ধ্যানে, জ্ঞানে, মধ্যরাতের খোদার রহমতের দরিয়ায় ঝড় তুলে দেয়া তোমার সেজদাহরত ঠুকরানো প্রার্থনায়। ভালোবেসে আমার মনের ভেতরকার ঘুমন্ত ঈশ্বরভীতি তুমি জাগিয়ে তুলিও লক্ষ্মীটি।
আমি তোমার তাবৎ ভালোগুলো রাখবো আমার যাবতীয় প্রার্থনায় আজন্ম, আজন্ম, আজন্ম....
মুন্ময়ীঈঈ,
বিশাল আসমানের মাঝে শাঁ-শাঁ করে উড়তে থাকা বালকের ঘুড়ি যেভাবে দিনশেষে থেকে যায় সন্ধ্যায় গিট্টু দেয়া বিশ্বাসের সুঁতার মাথায়, আমি অমনিভাবে ঘাঁপটি মেরে থাকবো। আমায় তুমি চোখের কাজলে রাখিও শ্রেয়সী!
জানো স্নিগ্ধাশ্রিয়া,
এই পৃথিবী বড় রুক্ষ। ভীষণ মৃত। পৃথিবীর চোখ, কান, গলা, প্রতিনয়ত এই নরকের পৃথিবীর কণ্ঠনালী বেয়ে গলে গলে ঝরে পড়ে বেদনার পুঁজ।
পৃথিবীর পাজড় কাঁপিয়ে দাউদাউ করে বেজে চলেছে করুণ বিচ্ছেদের বাঁশির সুর। মুখের চেয়েও যে এখানে মুখোশ বেশী!
ঢেউ!
এখানে অলিক বলতে কিছু নেই, এখানে সমস্ত কিছুই বাস্তব। অলীকহীন এই পৃথিবীতে মানুষের মানুষ হারিয়ে যাওয়া নিয়ম, আর থেকে যাওয়াটা আশ্চর্যের।
আমি তোমার না হয়েও আজন্ম থেকে যাবো তোমার প্রতিটা বেদনার নিঃশ্বাসে, চাপা কান্নার অশ্রুর নুনাপানিতে কোনো পরজীবী হয়ে।
আমি থাকবো সুশ্রীটি!
পৃথিবীর যাবতীয় নিরট বাস্তবতার দেয়াল ভেঙে, প্রতিষ্ঠিত সমস্ত সত্যকে ছাপিয়ে অলিক হয়ে আমি থাকবো তোমার, শুধুই তোমার লক্ষ্মীটি!
তোমায় ইউনিভার্সের ইনফিনিটিজমের সমান ভালোবাসি, তুমি আমার থেকো :')
বিশ্বাস করো, দুনিয়ার সাড়ে আটশো কোটি মানুষের ভীড়ে আমি নিতান্তই সংখ্যালঘিষ্ঠ; আমায় আগলে রেখো তুমি কানের পাশে বিরক্ত করা কেশগুলোর ন্যায় হলেও...
«মানুষ ভাতের অভাব সহ্য করবার পারে, মাগার ভালোবাসার অভাব পারে না »

কি মর্মস্পর্শী! 💔
ReplyDelete