তুমি আমার রুহের অর্ধেক, আকলেরও অর্ধেক আর হৃদয়ের পুরোটাই...

 

ঊর্মিমালা,

মনটা হয়তো ইদানিং খুব বিষণ্ন থাকে। সিদ্ধান্তের যাঁতাকলে পড়ে সময়টাও বেশ খারাপ কাটে তোমার। বুকফেটে কান্না আসে, আলতো করে আমি মাথা ছুঁয়ে দিলেই বিড়ালছানাটার মতো সব দুঃখ অশ্রুকারে বেরিয়ে আসবে।

আমার বুকে মাথা রেখে কান্না করতেও মনে চায় অনেক আমি জানি...

I wish, এই ভেদাভেদ পেরিয়ে আবারো আমরা নতুনরূপে সময়কে উপভোগ করে এক থাকতে পারতাম, আবারো গুছিয়ে নিতাম জীবনকে...

হয়তো তা খুব শীঘ্রই হবে 

হয় নিজের হয়ে ছায়া হয়ে কিংবা অন্যের হয়ে মায়ায়...

স্বর্ণলতা, 

তুমি জানো আপাতত আমাদের কথোপকথন শেষ হলেও প্রকৃতপক্ষে আমাদের কথোপকথন বা কথাবার্তা কখনো শেষ হয়নি। আমরা কথা বলতে থাকি আমাদের সে-সব সময়ের সাথে, মুহূর্তের সাথে, অনুভূতির সাথে যা ছিল আমাদের অনুকূলে। আমাদেরকে ঘীরে।

এখনও মাঝেমধ্যে প্রায়শই সে-সকল সময় এমন ভারি এক অনুভূতি নিয়ে আমার দরোজায় এসে দাঁড়ায়, খেপাটে সমুদ্রের মত এমন নিষ্ঠুরতা নিয়ে আছড়ে পড়ে বুকের উপর, অদ্ভুত এক যন্ত্রণাতে আমি ভেঙেচুরে ভেসে যাই।

আমি আকাশ দেখি খুব আজকাল। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে তুমি থাকাকালীন আমি কখনো এত মন্ত্রমুগ্ধের মত আকাশ দেখিনি। আকাশের সাথে দুঃখী মানুষদের কিছু একটা মিল আছে। সেটা ঠিক কী আমি ধরতে পারছিনা। 

ইদানিং আমার হাত কাঁপে তোমাকে হারানোর কথা মনে হলেই, পায়ের গোড়ালি একবার কাঁপা শুরু হলে পুরো শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে। থামাতে খুব কষ্ট হয় আমার।

শুধু মনে হয়, যারা দুঃখপ্রবণ, যাদের চেনা পৃথিবী সংকীর্ণ, তারা মনে হয় আকাশের প্রেমে পড়ে আকাশ হতে চায়। আমিও কী তাহলে আজকাল আকাশ হতে চাচ্ছি! মানুষ কী আধো আকাশ হতে পারে?

আমি এখন আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা সাদা মেঘের দিকে তাকিয়ে বসে থাকি। কিছুই করছি না, কোনো অর্থ খুঁজছি না, শুধু তাকিয়ে আছি। মনে হচ্ছে, ঠিক মেঘের মত সরে যাচ্ছে আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি। আমাদের মধ্যে এখন যে দূরত্ব সে দূরত্ব কিলোমিটারে মাপা যাবে না, তা মাপা যেতে পারে অপ্রত্যাশিত সময়, উপেক্ষিত হাসি এবং স্মৃতিতে বন্দী হয়ে থাকা স্পর্শ দিয়ে।

কখনও কখনও মনে হয়, আমি বোধহয় অভ্যস্ত হয়ে গেছি তোমার এই না থাকা অভাবের সঙ্গে, তোমার অনুপস্থিতির সঙ্গে। কিন্তু শেষমেষ বুঝতে পারি, আমি অভ্যস্ত নয়, আমি কেবল ক্লান্ত হয়ে গেছি হিসাব করতে করতে।

আমি আজকাল বাঁচতে চাচ্ছি। উনুনে চা বসিয়ে কাঁচা রোদের জন্যে অন্ধকার ঘরখানার জানালা খুলে দেই। নিজেকে বোঝাচ্ছি যে এই অনুপস্থিতি এত বড় কিছু নয়। সব ঠিক হয়ে যাবে। সব ঠিক হয়ে যাবে। অথচ কিচ্ছু ঠিক হয় না। সবকিছুতেই যেন উঠে আসোও তুমি।

চায়ের কাপ তোমাকে মনে করিয়ে দেয়, জানালা তোমার সম্পর্কে প্রশ্ন করে, এমনকি এই কাঁচা রোদের উজ্জ্বল আলোও তোমার অভাবে ম্লান হয়ে যায়।

ঘুম থেকে উঠেই সূরার সাথে জপতে থাকি তোমার নাম। 

তুমি জানো না তোমার একটু সরের আসবার পর কীভাবে জীবনের ছোট ছোট বিস্তারিতকে ভালোবেসে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, ভালো থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এসবের মানে কী'বা হয় যদি এগুলো করার পরও তোমার না থাকা দুঃখবোধটাই সবসময় বড় হয়ে ওঠে!

জানো,

আমি আর তাকে বিশ্বাস করি না, যে বলে মানুষ শোক কাটিয়ে উঠতে পারে। 

ভুলে যেতে পারে খুব দ্রুত। আসলে শোক কাটিয়ে ওঠা যায় না। শোক মানুষকে ক্লান্ত করে, শূন্য করে; শোক হৃদয়কে এমনভাবে গড়বড় করে দেয় যা কোনকিছু দিয়েই ঠিক করা যায় না।

আমি শুধু তোমাকে মিস করছি, করছি তো করছি ; একটা দিনও যাচ্ছে না মিস করা ছাড়া। দম বদ্ধ হয়ে আসে ইদানিং।

কোনো কারণ ছাড়াই, কোনো নাটক ছাড়া, কেবল তোমার সেই উপস্থিতিকে ও হাসিখুশি সময়গুলো মিস করছি যা প্রতিদিন আমার সারাটা ক্লান্ত দিনটিকেও পূর্ণ করে দিত। কখনও কখনও মনে হয়, আমি তোমাকে মিস করি না, বরং তোমার প্রয়োজন অনুভব করি। এই পার্থক্যটা খুব ছোট, কিন্তু তা গভীরভাবে আমাকে মর্মাহত করে।

আমার মনে পড়ে তোমার চোখের শীতল দৃষ্টি ফেলে এক দৃষ্টিতে গভীরভাবে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার কথা। মনে পড়ে, যখন আমি মন খারাপ করে চুপ হয়ে বসে থাকতাম, তখন তুমি তোমার চোখের দৃষ্টিতে আমাকে এমনকিছু বলতে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। 

গভীর মমতাভরা ঐ দুটো মায়াময় চোখের দিকে তাকালে আমার হৃদয় শীতল হয়ে যেত। মূহূর্তেই কেটে যেত সমস্ত দুঃখ ও অবসাদ। মনে ফুঁইটা উঠতো হাজারো রঙ্গের গোলাপের বাগান।

এখন আমার চুপ করে থাকা, মন খারাপ আর কেউ পড়ে না। আমার দৃষ্টির প্রতিউত্তর দেয় না। আর আমার কথাগুলো যেন একা হয়ে আনাদরে পড়ে থাকে এখানে-সেখানে। 

যেন আমি তোমায় আমার পকেটে রেখে ঘুরে বেড়াই, এবং একাকীত্ব লুকাতে তোমার সঙ্গে গোপনে এমন সাবধানতার সাথে কথা বলি, যেন কেউ বুঝতে না পারে।

তুমার মতে, "তুমি ব্লক দিলে বা টুকটাক কথা শুনালে আমি হয়তো ঘৃণা করবো বা দূরে সরে যাবো। "

পাগলি আমার,

ইহজগতে ইহা সম্ভব না পাগলি আমার।

যে ভালোবাসে সে না পেয়েও যেন একটা চিরচেনা অপেক্ষায় থেকে যায়; যে অপেক্ষার কোনো মানে হয় না।

কিন্তু তবুও অপেক্ষা করেই যায়, করেই যায়।

আমিও হয়তো তাই... :")

আশা রাখি তোমারও বছর চলে যাচ্ছে খুব দ্রুত; তুমি হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাচ্ছো আমাকে ভুলে যাওয়ার পৃথিবীতে। আমার তো আর বছর যায় না, আমি এখনও হাঁটছি। 

হাঁটতে হাঁটতে পিছনে ফিরে দেখি এখনও সমান দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে তুমি রেখে গেছো। 

যদি কখনো মনে হয় মা-বাবার পছন্দমতো ছেলেকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করে সুখে থাকা যায়, তাহলে বরং তাই থেকো।

কিন্তু আজ থেকে ১০ বছর পর গিয়ে কোনো এক নির্জন রাত্রিরে বালিশে মাথা লাগিয়ে এইটা কখনো আফসোস করো না লক্ষ্মীটি যে, "সব তো মা-বাবার কথাতেই করলাম। সবই বিসর্জন দিলাম। নিজের জন্য আর বাঁচলাম কই?”

আমি তখন খুবই কষ্ট পাবো জানো!🥺

ঐ কষ্ট সহ্য করার মতো হবে না আমার।

ভালোবাসলে মন খুলে, সময় নিয়ে পরিবারের সাথে বলতে হয়, কথা কাটাকাটিতে বুঝাতে হয়, তর্ক করে মানিয়ে নিতে হয়।

তবুও কখনো ছাড়তে হয় না লক্ষ্মীটি!

আমিও তোমাকে ছাড়তে চাই না। 

সর্বস্ব দিয়ে হলেও আগলে রাখতে চাই আমার।

সারা দুনিয়ার বিপক্ষে হয়েও লড়তে রাজি যদি তুমি পাশে থাকো :')

একতরফায় নিজের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই হয় না লক্ষ্মীটি!

তুমি যদি ১ কদম এগিয়ে আসো, আমি ১০ কদম এগিয়ে যেতাম তোমার কাছে। তবুও তোমাকেই চাইতাম সর্বকালেই...

তবুও যদি সবার সম্মানের দিক চিন্তা করে নাও আসতে পারো...

তাও আমি আজন্মই অপেক্ষায় রইবো তোমার ফিরবার।

যদিও তা সূর্য-তারা ছুঁইবার মতোই অনিশ্চিত জানি, তবুও অপেক্ষায় থাকবে তোমার পাঁচক মশাই :'))

আমি থাকবো মায়া হয়ে, পড়নের টুপি হয়ে কিংবা কালো ফিতার হাতঘড়ি হয়ে...

তুমি বরং আমি না থাকলেও আদর-যত্নে এগুলোকে রেখে দিও আজীবন যেভাবে মা রাখে তাঁর সন্তানদের আগলে...

যদি কখনো নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও পরিবারের যাঁতাকলে পরে কারো হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তবুও দুঃখ পেয়ো না লক্ষ্মীটি।

আমার স্মৃতিগুলোকে রেখে দিও সযত্নে তুলে, তাতেই আমার থাকা হবে তোমার সাথে আজন্ম।

এতেই হয়তো আমার স্বার্থকতা...

❝তুমি আমার রুহের অর্ধেক, আকলেরও অর্ধেক আর হৃদয়ের পুরোটা❞

Comments