Feelings from the HEAVEN

অর্ঘ্য?

: হুঁম...

কিসে ভয় পান আপনি?

: নিজের সাথে নিজের সহাবস্থান।

দুঃস্বপ্ন দেখেন?

: নাহ! তবে স্বপ্ন দেখতাম, দুঃস্বপ্ন হবার ভয়ে তাও দেখি না। তবে মাঝেমধ্যে তোমাকে জড়িয়ে ধরতে দেখি;
দেখি কৃষ্ণ উপহ্রদে শাওনের মেঘের ন্যায় উড়ন্ত বার্নিশ হাওয়ায় খেলে যাওয়া তোমার খোলা চুলগুলো…

মন খারাপ হলে?

: তোমাকে নিয়ে ভাবি।
তারপর দুঃখকে প্যাকেট করে সুখ বানাই এবং তোমার সুশ্রী হাসির মুক্তোঝরানো আওয়াজ নিয়ে শব্দের খেলায় কবিতা সাজাই।

আচ্ছা! ভালোবাসা কী?

: তোমার ছলছল করা কৃষ্ণকালো মায়াবী চোখ দিয়ে দেখলে মনে হয় অনুভূতি, নিঃস্বার্থ অনুভূতি।

সুশ্রী মুখ দিয়ে বললে, কতগুলো মিষ্টি-মধুর শব্দ।

গোলাপের পাপড়ির মতো
চাওয়াতে যার লুকিয়ে থাকে জীবন, দায়িত্ব নেয়াতে ওয়াদা, পেয়ে ফেলাতে জান্নাত আর না পাওয়াতে আজন্মকাল জীবনসুদ্ধ চাপা বিষন্নতা।

ভালোবাসা; সর্বদা তোমার ভালোতে বসবাস করা। তোমাকে না পেয়েও তোমার ভালোবাসার মানুষকে সুদ্ধ ভালোবাসা।
.
ঢেউ,
জানো!
ভালোবাসা একটা বিশ্বযুদ্ধ ; সে যুদ্ধে তুমি স্ট্রং প্রতিপক্ষ আর দুর্বল আমি তোমার চোখের কাছে এসে বার বার পরাজিত হওয়া এক ব্যর্থ চ্যাপলিন।
ভালোবাসা নিজে ক্ষুধার্ত থেকেও একটা আপেল দু'জনে মিলে ভাগ করে খাওয়া।
কিংবা একটা দুর্ভিক্ষ, আর আমি আমার ভাগের গোটা আপেলটা তোমার হাতে তুলে দিয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় জাখমি এক ক্ষুধার্ত সিভিলিয়ান।

ভালোবাসেন আমায়?

: তা জানি না! তবে ইচ্ছে করে মনের কোণে অর্ধযুগ ধরে উহুদ পাহাড় হয়ে জমানো সব কথাগুলো এক নিমিষেই উগড়ে দিয়ে আত্মাটাকে ক্যান্সারমুক্ত করি।
ইচ্ছে করে ফাল্গুনের নয়া প্রত্যুষে সদ্যফোঁটন্ত কৃষ্ণচূড়া ফুলটা নিজ হাতে তোমার সাইক্যাডেলিক কানে গুঁজে দেই, শ্রাবণের শেষ রিমঝিম বৃষ্টির সন্ধ্যায় তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাঁধিয়ে ফেলি।

আর?

: আর অন্তত একটা দিন হলেও তোমার হাতে হাত রেখে সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপে পালতোলা নৌকায় কোলে মাথা রেখে রাতভর জ্যোৎস্না দেখি।

আমাদের আর দেখা না হলে?

: পৃথিবী অনেক ছোট, এখানে কাকতালীয় অনেক্কিছু ঘটে।
তবে না হলেই ভালো, এতে ভালোবাসা বাড়ে :')

আমি রাগ করে চলে গেলে?

: যে ভালোবাসে সে রাগ করে না, রাগ ভাঙায়।
তোমার মিষ্টি রাগ-অভিমান আমার কাছে উপহারস্বরূপ যার প্রতিটা শব্দের মূল্য আমার হার্টের প্রতিটা হৃদস্পন্দনের 'ধকধক' নৈঃশব্দিক আওয়াজ।

তা হঠাৎ চোখের কোণে পানি জমলো কেনো?

: তা কিছু না।
দীর্ঘদিন বরফখণ্ডে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়াদের যখন জ্বর আসে তখন তারা সিক্ত অনুভূতি হয়ে জলরূপে বেরিয়ে যায়।

লুকাচ্ছেন কিছু?

: উমহুঁ! অনুভূতিরা সজাগ হলে কিছু লুকানো যায় না।

বুঝি, বুঝি! বড্ড বেখেয়ালি আপনি। যত্ন করে একটু নিজের যত্ন নিয়েন।

: মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের হায়াৎ অনেক বেশি। সহজে অসুখবিসুখে মরে না। স্বপ্ন ভাঙা দেখার জন্য হলেও দীর্ঘদিন বাঁইচ্চা থাকে :'')

আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে?

: ভালোবাসায় অভিযোগ থাকে না, থাকে শুধু অনুভূতি ও একসাগর পরিমাণ ভালো থাকার দো'আ ও যত্ন।

ভুলতে পারবেন?

: কথাটাই ভুলে গেলাম।
আজন্মকাল মনের জমিতে স্মৃতি চাষ যে করে যে রাখতে জানে, সে কি মুখের কথা মানে?

আমাকে না পেলে?

: পেয়ে গেলেই তো ভালোবাসার পূর্ণতা হয় না।
মহব্বত হ্যাঁয়, তো একতরফা-ই সাহি মেরে জান! দু'তরফা তো ব্যবসা হয়।

থাকতে পারবেন?

: তা কষ্ট হবে! তবে থেকে যাব কবরের উপর ফোঁটা হরিৎ ঘাস হয়ে যাঁকে স্মৃতি হয়ে নিরন্তর পাহাড়া দিবে খেজুর গাছ।

চলে গেলে ক্ষমা করে দিবেন?

: তোমার বাম গালের তিলের কসম, ভালোবাসা না বুঝলেও তোমাকে আমি বুঝি :')

Comments