পাহাড়ে একদিন আমরা


 শ্রেয়সী অন্বিতা,

একদিন আমরা পাহাড়ে যাব। বাসের দু'টো টিকেট কাটবো। তুমি হিমশিম খাবে নিজেকে গোছাতে, মেরুন রঙের শাড়িটা পরবে নাকি নীল চুড়ি।

লম্বা চুলগুলো বেণী করবে নাকি ফুলের পাঁপড়ির মতো কার্নিশ হাওয়ায় উড়াবে এসব ভেবে।

 গাড়িতে দুজন পাশাপাশি বসবো এঁটেসেটে। আবহাওয়া থাকবে স্যাঁতস্যাতে। বাহিরে সূর্যের রশ্মি ভেদ করে ঝিরঝির বৃষ্টি পুরো পৃথিবীকে জানান দিবে আমাদের পাহাড়যাত্রার কথা।

ফাতিমা,

জানালার পাশে তোমাকে আমি Vampire Blood এর কাশ্মীরি চাদরে জড়িয়ে ধরবো।

জানালা ঘেষে ততক্ষণে ঢুকতে থাকবে মৃদুমন্দ তুমুল হাওয়া। চোখে জানালা দিয়ে দূরের আটকে যাওয়া দৃশ্য গুলো তুমি তর্জনী আঙুলে ইশারা করে দেখাবে আমায় আর বলবে, "জান দেখো! দৃশ্যগুলো কি ভীষণ সুন্দর।"

আমি দৃশ্য দেখবো না, আমি তোমার মায়াবী চেহারায় দৃশ্যের প্রতিফলন দেখে মুগ্ধ হবো আর বলবো, "এইতো! দেখছি। অনেকককক সুন্দর" :)

দীপান্বিতা, 

তোমার কথা শুনতে শুনতে আমরা পৌঁছে যাবো পাহাড়ে। পাহাড়ের হৃদপিণ্ড চিরে বেরিয়ে আসা পথ ধরে একেবারে চূড়ায় উঠে যেতে হাঁটবো দু'জন হাত ধরে একসাথে।

মাঝপথে এসে যখন তোমার উঁচুভীতিতে কলিজা কেঁপে উঠবে, তখনই পাশ থেকে শক্তপক্ত একজোড়া হাত দিয়ে তোমায় অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরবো।

মেঘশ্রী,

আমরা চূড়ায় যেতে যেতে একেবারে মেঘের খুব কাছে গিয়ে মেঘ ছুঁয়ে দেখবো। ঝর্ণায় গাঁ ভিজিয়ে হবো দু'জনে জুবুথুবু।

ততক্ষণে রূপসী আবহাওয়ার স্যাতস্যাতে মিষ্টি ঘ্রাণে তোমার ভিতরে এক ধরনের চঞ্চল ভাব চলে আসবে। অপার্থিব কোন এক আনন্দে জল ছুড়াছুড়ি শৈশব জেগে উঠবে দু'জনের স্বভাবে, নিজেদের মনে হবে মুক্ত বিহঙ্গ উড়িছে আকাশে অবলীলায় :-)

মাধবীলতা,

সময় তার নিজের মতো পিচ্ছিলতার উপর দিয়ে গড়াতে থাকবে। ধীরে ধীরে নেমে আসবে পৃথিবীর বুকে কনকনে ঠাণ্ডার রাত, তীব্র কু্ঁয়াশা।

তখন ঠাণ্ডার তীব্রতা ঢুকে যাবে আমাদের গায়ের সবকয়টা পশমের ফাঁক ফোকড়ে। এক চাদরে দু'টো শরীর মিলে একটা শরীর হয়ে আমরা গুঁজে থাকবো একে-অপরের বুকের খুব গভীরে। হু-হু শীতে ঝি'মাবো দু'জন ঠোঁট কেঁপে।

হাইড্রোজেন বোমানিঃসৃত লোহিত রক্তকণিকার ন্যায় তোমার রক্তিম ড্রাই ঠোঁটগুলো যখন কাঁপাকাঁপিতে ব্যস্ত, ততক্ষণে আমি আমার পিচ্ছিল ঠোঁটে তোমার ঊষ্ণ নিঃশ্বাসে বসবাস করব। 

এই বৈরী কনকনে আবহাওয়ায় এতটুকু রোমান্টিক তো আমি হতেই পারি...

স্বর্ণলতা,

ধীরে ধীরে রাত্রিরের আধাঁর পাহাড়ের আরোও খুব কাছে নেমে আসবে। স্বর্ণলতার মতো নেমে আসা ঝর্ণার 'শশশ' শব্দ, নাম না জানা জন্তু-জানোয়ারের হাকডাক, দূরে ঘন সবুজ জঙ্গল, মাথার উপর খোলা আসমান, আসমানে হুমায়ুন আহমেদের উজ্জ্বল বাঁকা চাঁদ, পাতার ফাঁক ফোঁকড় ডিঙিয়ে গলে পড়া জ্যোৎস্না - সবকিছুই আমাদের সঙ্গ দিবে।

আমি তোমার চুলে বিলি কাটতে কাটতে দু'হাত ভরে ছ'টাক ঘুম এনে মেখে দিব তোমার চোখদুটিতে। চিমটি দিয়ে ওই চাঁদ এনে সেঁটে দিব কপালে। গালে গাল ঘষে ফিসফিস করে প্রথমবার প্রেমে পড়ার মত করে আমরা একে অপরকে বলব "ভালোবাসি" খুব লক্ষ্মীটি!

আফ্রোদিতি, 

জীবন খুউউব ছোট্টো।

ওইটুকু ছোট্টো জীবনে একবার হলেও আমাদের পাহাড়ে যাওয়া উচিৎ। এক বাটিতে, এক পাটিতে ঘুরপাক খেতে খেতে জীবন যখন অস্থির হয়ে ওঠে বলা যায় না। কোথাও যখন শান্তি পাওয়া যায় না তখন পাহাড়ে যেতে হয় বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে। 

পাহাড়ে আমি তোমার নিশ্বাস ফেলার ফুরসত হবো লক্ষ্মীটি!

লক্ষ্মীটি,

পাহাড়ে একা নয়, পাহাড়ে দু’জন যেতে হয়। একটা বিশ্বস্ত হাত থাকতে হয়, যে সকল বাধা-বিপত্তি, ক্লান্তি, প্রেম, মুগ্ধতা দুঃখ, কষ্ট, খারাপ সময়, ভালো সময় সবটুকু মানিয়ে নিয়ে হাত ধরে রাখে শক্তপোক্ত ভাবে। কৃষ্ণপক্ষ-শুক্লপক্ষ আসবে যাবে জীবনে, তবুও হাল ছাড়বে না একচিমটিও। 

আমি নই,পাহাড়ে যেতে হয় "আমরা" হয়ে। একদিন তুমি আমি দু'জন মিলে আমাদের হয়ে পাহাড়ে যাবো; যাবে আমার সঙ্গে? :')


Comments