এসো বৃষ্টি মম ছাতিম ফুলের মরশুম...
লক্ষ্মীটি!
মানুষ বলে ভালোবাসি বলার পর প্রেম উড়ে যায়। এজন্য আমি মুখফুঁটে আজও বলি নি। যা বলার তুমিই বলো।
কিন্তু তুমি তো জানো, আমি প্রতিদিন তোমার প্রেমে পড়ি কয়েক হাজার বার। তুমি যখন উনুনে চা বসিয়ে এলাচ ছড়াও, ঘ্রাণ মেশে সারা ঘরে, ঝড় উঠে চায়ের কাঁপে তোমার হাতের ছোঁয়ায়।
সুঁতির ব্ল্যাক আর মেরুন শাড়ি পরে যখন আমায় দেখাও, তখন আমার হৃদয়ের কোণে নতুন ফুল ফোঁটে অহরহ যার প্রতিটা পাঁপড়িই তোমার নাম জপে, 'ঢেউ, ঢেউ,ঢেউ'!
ঊর্মিমালা,
ওরা বলে সম্পর্কের বয়স বাড়লে নাকি মুগ্ধতা ফুরিয়ে যায়। অথচ তোমার কপালের কালো টিপ থেকে শুরু করে, কাজলবতী চোখের মায়ায় বরাবরের মতোই আমি আজও মুগ্ধ।
তুমি কার্নিশের মতো দুয়েকটা চুল যখন ইচ্ছে করে তোমার তোলবোলে গাল বরাবর ইচ্ছে করে ফেলে রাখো তখন কেমন করে জানি আমার হাত-পা গজিয়ে ওঠে। আমি তখন হাত প্রসারিত করে চুলগুলো ঠিক করে দিতে দিতে তোমায় বলতে ইচ্ছে করে,“জান! তুমি ফুলের মতো সুন্দর।”
প্রিয়তমা,
আমার না বলা কথারা দিন-দিন মহাবিশ্বের মতো বেড়েই চলেছে। আমার খুব কথা বলতে ইচ্ছে হয় তোমার সাথে তুমুল জ্বরেও, সময়ে-অসময়ে, সারাক্ষণ; ঠিক সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর ঘনঘন কান্নার মতো।
আমার বলতে ইচ্ছে হয় পৃথিবীর খেলার ছলে ফিলিস্তিনের যুদ্ধকে ভালোবাসা নবশিশুর গল্প থেকে ব্যবিলনীয় সভ্যতার ইতিহাস।
দৈনন্দিন দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি হলে কেন আমাদের মধ্যবিত্তের রক্তচাপ বেড়ে যায়, মা কেনো মাঝেমধ্যে মৃত্যু কমনা করে প্রার্থনায় বসে।
বলতে ইচ্ছে করে, রাজনীতি কেন আমার পছন্দ না, শিবিরও কেন না-
হুমায়ুন আহমেদের “সঙ্গীনি” কেনো আমার ভীষণ পছন্দের। শুধু মন খারাপ থাকলেই কেনো আমি রবীন্দ্রনাথের “একলা চলো রে” শুনি, কেন টাইটানিক সিনেমা দেখে জ্যাকের মৃত্যুর চেয়েও রোজের বেঁচে যাওয়াটা আফসোসের লাগে কিংবা কি কারণে জীবনানন্দ আমার প্রিয় কবি।
সুশ্রীটি,
ওরা বলে একটা সময় পর মান অভিমানের আর কোন মূল্য থাকে না। অথচ বিশ্বাস করো তোমার রাগ অভিমানের চড়া মূল্য দিতে ইচ্ছে হয় আমার।
অভিমান হলে তোমার যে ক'ফোঁটা নোনতা জল চোখের পাঁপড়িকে ভিজিয়ে দিয়ে চলে যায়, সেই ক'ফোঁটা জল যেতে যেতে যে একলক্ষ অভিশাপ আমায় দিয়ে যায়, সে অভিশাপ হাসিমুখে গ্রহণ করতে ইচ্ছে করে।
ইচ্ছে করে সেই অভিশাপ পকেটে ভরে শ'খানেক দোকান ঘুরে তন্নতন্ন করে খুঁজে আনতে কাঁচা ফুল। :')
বাড়িতে ফিরে তোমার কৃষ্ণকালো লম্বা চুলের খোপায় সে ফুল গুঁজে দিতে দিতে রাগে ফুলে লাল হওয়া গাল দু'টো টিপে দিয়ে বলতে যে, “রাগ করে না লক্ষ্মী আমার!”
ফুল পেয়ে রাগ কমে গেলে বিড়াল ছানার মত তোমার বুকে টুক করে ঢুকে যেতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে তোমার মাথার প্রতিটি চুলে আঙুল বুলাতে যে আঙুলের প্রত্যেকটায় থাকতো ভরি ভরি পরিমাণ ডায়মন্ড; যাঁর প্রতিটা ডায়মন্ডের পরমাণু শুধুই তোমার কৃষ্ণকালো কেশের প্রশংসা করতো!
যামিনী!
কিন্তু খোদা তা'আলা তো এখনো আমায় অত আঙুল দেয়নি। আমি এখনো শক্ত করতে পারি নি আমার পায়ের তলা!ক
মাঝে মাঝে খুউউব মন খারাপ হয় কেন দেয়নি! কান্না পায় খুব। কান্না পেলে আমার তোমাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে একলক্ষ হাতে, অত হাত না থাকাতেও পুনরায় আবার আমার আফসোস হয় খুব লক্ষ্মীটি :'))
মায়াবতী,
ওদের কথা বাদই দিলাম।
তুমিও বলতে পারবে না আমি তোমায় নিয়ে ভাবি না। আমি তোমায় নিয়ে খুব ভাবি লক্ষ্মীটি আমার।
সারাক্ষণ ভাবি, কারণে-অকারণে ভাবি। অর্ধযুগ ধরে ভাবি, কিন্তু তুমি জানো না :'((
আমি ভাবি কোন রঙের শাড়িতে তোমায় বউ বউ লাগে!
- তুমি সমুদ্র ভালোবাসো নাকি পাহাড়?
- ভূতে বিশ্বাস করো?
- সব পাখির নাম জানো?
- আমার পিচ্ছিল ঠোঁটে থাকতে চাও আমার, নাকি লোমাবৃত বুকে?
- চোখের পাতায় রাখতে চাও আমায় নাকি লেখার খাতায়।
- কেন আমার চুল শাদা হয়ে ঝরে গেলে তুমি কষ্ট পাও, কেন রাত্তিরে তোমার ভাল্লাগে না বা জ্বর আসে, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়!
বিশ্বাস করো লক্ষ্মীটি!
পৃথিবীতে এত শীতল যুদ্ধের আগমন ও প্রতিযোগিতা; তবুও আমি সমস্ত যুদ্ধ অন্যপাশে রেখে তোমায় ভাবি।
তোমার কথা ভাবতে ভাবতে আমি নাওয়া-খাওয়া ভুলে যাই, ক্যালকুলাস ভুল করে ফেলি, ফাইল-পত্রে তারিখ ভুল লেখি, তেল গরম হওয়ার আগে ডিম ভেঙে দেই কড়াইতে, পুড়িয়ে ফেলি ঠোঁট গরম চা'য়ে তোমাকে ভাবতে ভাবতে।
নন্দিনী!
ওরা বলে পুরুষ হারামখোর বাসি হলে ছেড়ে যায়।
কিন্তু আমি থাকবো লক্ষ্মীটি।
আমি তোমার নক্ষত্র হয়ে থাকবো, তোমার নিরাপদ বুক হয়ে থাকবো, আমি থাকবো তোমার রোদ’পুকুর হয়ে, আমি তোমার কোল হয়ে থাকবো, তোমার আদর হয়ে থাকবো, আমি তোমার শাড়ির আঁচল হয়ে থাকবো, চোখের কাজল হয়ে থাকবো, বুকের পাঁজড় হয়ে থাকবো, বাম গালের তিল হয়ে থাকবো।
তোমার শখের পুরুষ তোমার হয়েই থাকবে আজন্মকাল লক্ষ্মীটি!



Emotional🥺
ReplyDelete