জানতাম তুমিও একসময় আমার প্রেমে পড়বে নূপুরের 'ঝনঝন' শব্দ হয়ে...
Ü: আমাকে ভালোবাসার কথা না বলে সেটা প্রকাশ করো,“তাহলে আপনি কী করবেন?”
✿ আমি তোমার জন্য একজোড়া নূপুর কিনব, তারপর তোমার অনুমতি চাইব সেগুলো তোমার পায়ে আমার হাত দিয়ে পরিয়ে দিতে।
U: আর যদি আমি 'হ্যাঁ' বলি?”
✿ তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ হয়ে যাবো।
Ü: কিন্তু নূপুর পায়ে পরিয়ে দেওয়াটা আপনার এত আনন্দের কারণ কী?"
✿ এটা আনন্দ নয়, এটা শান্তি রে পাগলি! যখনই আমি তোমার 'ঝিমরিম' পদশব্দ শুনবো, মনে হবে আমি পরম শান্তিতে আছি, নিরাপদে আছে আমার আত্মা। কারণ যাকে আমি ভালোবাসি, সে আমার চারপাশে রয়েছে ঐ ভাবনা নিয়েই কাটিয়ে দিতে পারবো হাজার বৎসর।
Ü: তাহলে এটা কীভাবে আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করে?"
✿: যখন আমি নুয়ে তোমার পায়ে নূপুর পরাব, তখন তুমি বুঝবে—ভালোবাসায় কোনো পুরুষতান্ত্রিক অহংকারের স্থান নেই। ভালোবাসার দিক দিয়ে আমরা সমান লক্ষ্মীটি!
এই হিশেবে আমি কখনো দ্বিধাবোধ করব না তোমার পায়ের কাছে নত হতে, তোমাকে রক্ষা করতে, যদি কখনো জীবনের পথে তুমি হোঁচটও খাও।
সর্বদাই আমি তোমার নিকট ঢাল হিশেবে থাকবো শত বাধা পেরিয়েও পাগলিটা আমার!
Ü: আপনাকে হারিয়ে ফেললে ?
✿ অলৌক্ষণে কথা বলে না লক্ষ্মীটি!
তবে আমারে হারাইলে তুমি আমার বাচ্চামিগুলা মিস করবা, আমার করা ছোট ছোট কেয়ার গুলো মিস করবা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যের খেয়ালের দিকটা মনে করার মানুষটাকে মিস করবা, দূর থেকে তোমার কষ্টগুলো থেকে কুড়িয়ে পাওয়া কষ্টগুলোকে নিজের ভেতর লালন করাটা মিস করবা, কথায় কথায় অবুঝদের মতো হাসানোর একজন মানুষ হারাবা, কোনো রকম জাজ না করেই তোমার কথাগুলো নীরবে শোনার মতো একজন মানুষ হারাবা লক্ষ্মীটি!
আমারে হারাইলে তুমি শুধু আমারেই হারাবা না একজোড়া প্রার্থনার হাত হারাবা যে নিজের চাইতে তোমার জন্য তাহাজ্জুদের সিজদায় অর্ধযুগ ধরে প্রার্থনা করে।
আমাকে হারাইতে দিও না লক্ষ্মীটি!
আমাকে হারাইতে দিলে আমি মানুষটা বেবাক সাধারণ হয়ে যাবো আরো।
তখন আমি নিতান্তই জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়বো।
তোমার করা হাজারটা অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সায়েন্টিফিক উত্তর আর এত্তো আগ্রহ নিয়ে খোঁজার মানুষটা হারিয়ে যাবে, হারিয়ে যাবে তোমার প্রতিটা প্রশ্নোত্তরের খাস বাংলায় প্যারাগ্রাফ বলে বলে বুঝিয়ে দেয়া মানুষটাও!
Ü: কিন্তু শক্ত পাথরও তো একদিন খসে পরে?
পথিমধ্যে নিয়তির সুতো ছিন্ন হয়ে গেলে?
✿ প্রিয়তমা,
আমি তোমায় হালালভাবে পাওয়ার আগেই ধরে নিয়েছি আমাদের আর কোথাও দেখা নাও হতে পারে না, হয়তো পাশাপাশি বসা হবে না, তোমার থেকে শুনা হবে না সারা দিনের জমানো কথাগুলো, অপেক্ষা করা হবে না কোন উপস্থিতির, আমার খাওয়ার আগে চুমুক দিয়ে দুধ চা'টা ঠাণ্ডা নাকি গরম তার ঊষ্ণতা মাপা যাবে না, চিনি না হলে আমায় বলা হবে না মিষ্টতা বাড়াবে চিনি দিবে নাকি চুমু। :'))
দিনের পর দিন চলে যাবে তারপরও বলা হবে না তোমায় খুব প্রয়োজন।
সব জেনেও তখন অবুঝ মনটা মানতে নারাজ হয়ে যাবে ৩ বছরের শিশুর আবদার করা চকলেটের মতো।
বড্ড মনে পড়বে তোমায় সময়ে অসময়ে। গগনবিদারী চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করবে খুউউউব, বড্ড মিস করি তোমায় পাগলি। 🥺
জানো!
তখন আমি কষ্ট তো পাবো।
সেই কষ্ট হবে ভীষণ সুখের যে সুখে আমার চোখদ্বয় হিমশীতল হয়ে আসবে তোমার স্মৃতির স্মরণে...
❝যে পাওয়ার আগেই না পাওয়ার ভয় লালন করে, তাঁকে হারানোর দুঃসাধ্য জগতের কারো নেই লক্ষ্মীটি!❞ ㋛
Ü: বদদোয়া দিবেন বুঝি?
✿ হ্যাঁ! আমার বদদোয়া আবার লেগে যায়।
আমি বদদোয়া দিবো যাতে দুনিয়ার সকল সুখ তোমার হয়।
তুলোর মতো নরম ও সাদা, হরিণচক্ষী দু'টো ফুটফুটে সন্তান আসুক তোমার কো'লে।
দুনিয়ার কোনো নাভিশ্বাস-অভিশাপের তন্দ্রা পর্যন্ত তোমায় স্পর্শ না করে। তাহলে আমি ভীষণ কষ্ট পাবো লক্ষ্মীটি।
আমার হৃদয় আরো খসে পড়বে বা'পাশের পাঁজর থেকে।
আমি তোমায় হারিয়ে ফেললেও আমার প্রার্থনায় তুমি হাজার বৎসর রয়ে যাবে যেমনটা রয়ে যায় ভরা পূর্ণিমার আলোতে ভেসে উঠা মায়াবী চাঁদ ☽



Comments
Post a Comment