কথা দাও কথা দিবেনা আর কাউকে...

লক্ষ্মীটি!

মহাশূন্যের এটমোস্ফিয়ারের গণ্ডিতে পাখির ঠোঁটে দোল খাওয়া খড়ের মতো অনিশ্চিত, মায়াহীন, ভালোবাসাহীন এই জীবন নিয়ে বাঁচার পায়তারা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে শেষমেষ যদি জীবন চিরকুটে ‘বিদায় পৃথিবী’ লিখে এমন এক আগস্টের ফাগুনে ফুরাই যায় আমার ফুসফুসে জমা অন্তিম নিঃশ্বাস!!

আমার ভয় হয় তোমারে কইতে না পারা কথা :'((

তখন কোথায় খুঁজবে আমায়, কেমন কাটবে সময় তোমার শুনি? 

আমার জানতে ইচ্ছে করে, ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে। ☹

অন্বিতা,

বাঁচতে বাঁচতে মানুষ স্মৃতি তৈয়ার করে, মৃত্যুর পর সেই মানুষের স্মৃতি পুড়িয়ে আবার কয়লা বানিয়ে পথ চলে।

শুনেছি বিস্মৃতি নাকি ভয়ংকর ধারালো ছুরি হয়, শক্তপোক্ত মানুষের হৃদয়ও হুটহাট শশার মতো ফালিফালি করিয়া কেটে ক্ষতবিক্ষত করে সোজা চলে যায়। 

সেই চলার পথে তোমার আশেপাশে শেঁকড়ের মতো ছড়িয়ে দেওয়া আমার দু'দণ্ড কাটাছেঁড়া স্মৃতিগুলা কি বাড়িয়ে দিবে তোমার বুকের জ্বর?

তোমার প্রিয় মুগ্ধতা, অ'প্রিয় অভ্যেস, প্রিয় নাম, প্রিয় খাবার, প্রিয় জায়গা, প্রিয় শখ, প্রিয় গান, প্রিয় বই, প্রিয় কবিতা, প্রিয় ফুল, প্রিয় কৃষ্ণকালো ও সাদা রং আর তোমার তিন ইঞ্চি বুকের তিলের গভীরে জমা হওয়া আমার সমস্ত প্রিয়তুর স্মৃতির ধূলো নাড়াচাড়া করতে গিয়ে তোমার কি চোখ ঝাপসা হবে? 

জানতে ইচ্ছে হয়, আমার ভীষণ জানতে ইচ্ছে হয়।

মাধুশ্রীলতা,

একই পৃথিবীর পাড়ে বেঁচে আছি আমরা

ভাষার প্রেমে পড়ে, একই মানচিত্রের তলে…

একই জ্যোৎস্নার আলো গায়ে মেখে ভালোবাসা হয় আগুনভরা নক্ষত্রের রাত্রে-

দোলা হয় একই হাওয়ার স্পর্শে....

একই আসমানের নিচে রিমঝিম বৃষ্টির জলে ভিজে স্বাগত জানাচ্ছি একশো তিন ডিগ্রি জ্বর'কে—

বৃষ্টির পানি পড়া কচু পাতার উপরে জমা একফোঁটা জলের মতো ভালোবাসি তোমায় সাবধানে :')

একই শহরের ট্রাফিকজ্যামে আমাদের মুখে ফুটে ওঠে জীবনের উপর বিরক্তির চাপ—

আর ঘামে ভিজে ভিজে অস্থির হয়ে দু'জনেই একই বাক্যালাপে স্বীকার করি, লোডশেডিং তোমার মায়ার মতোই আটপৌরে •')

একদিন....

একদিন আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। একদিন আমার আর কান্না পাবে না, অসহায় লাগবে না, হাহাকার জাগবে না৷ 

সেইদিন হাতে থাকা কাপ কিংবা গ্লাসের চা'য়ে কিংবা রেস্ট্রন্টের রেড ওয়াইনে চুমুক দিতে গিয়ে মনে হবে একদিন সব ঠিক হওয়ার কথাই ছিল । 

স্বর্ণলতা,

হেরে গেছো তো কি হইছে? 

তুমি তো রক্তে-মাংসে গড়া মহীয়সী নারী লক্ষ্মীটি!

তোমার হারাটা কি স্বাভাবিক নয়! 

কেনো নিজেরে দোষারোপ করো, কেন রাত্রি হলেই একা একা চোখ দিয়ে বৃষ্টি নামিয়ে বালিশ ভেজাও?🥺

সম্পর্কে হেরে যাওয়া মানুষদের সাথে প্রতিযোগিতা বাদ দাও, নিজেরে দোষারোপ করিও না আর, একটু শান্ত হও, অনেক কষ্ট পেয়েছো; এবার একটু স্থির হয়ে বসো, বুক ভরে শ্বাস নাও লক্ষ্মীটি!

নিজেকে বোঝাও যে জিতে যাওয়ার চেয়ে বেঁচে থাকাটা বেশী জরুরী। :))

প্রিয়তমা,

জীবনকে বুঝতে শিখো। একটা খারাপ অতীত মানেই খারাপ ভবিষ্যত না। বরং ভালো কিছুর সূচনাই হয় খারাপের মাঝ দিয়ে। 

সবকিছুতে জিতে যাওয়ার নামই কেবল জীবন না। 

জীবনটা হচ্ছে একটা হার-জিতের দীর্ঘ খেলা।

এ খেলাতে সবসময় তুমি জিতবা, অথবা সবসময় তোমারেই জিততে হবে ব্যাপারটা এমন না। 

কখনো কখনো খুব বাজেভাবে হারবে, শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করার পরও যুদ্ধ করে হেরে যেতে হবে।

 জীবনে হেরে গেলেই মরে যেতে হয় না— হারের মাঝেও তো আছে বেঁচে থাকার আনন্দ। 

তুমি সুইসাইডের চিন্তা মাথায়ও আনবা না, তাহলে আমি জিন্দা লাশ হয়ে বেঁচে থাকবো তোমার স্মৃতি ও কষ্টের ভার নিয়ে।

২৩ এর আগস্টের ফাগুনের হাওয়ায় 

তুমি যদি এভাবে রোজ ক্ষয়ে যাও, ফুরিয়ে যাও একটুআধটু করে, 

কে দেখে রাখবে তোমায়?

কে তোমায় গুছিয়ে দিবে? 

একটা দুঃস্বপ্ন মরে গেছে তো কি হয়েছে? 

লক্ষ্মীটি!

মানুষ তো স্বপ্নবিলাসী, আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখবা।

তুমি না অনেক বুদ্ধিমতী! 

বুদ্ধিমানরা হার থেকে পালিয়ে যায় না, হার মেনে নেয়। হার থেকে শিখে। 

তুমিও পারবা, আমি জানি তুমি পারবা। 

তোমাকে পারতেই হবে। আমি আছি লক্ষ্মীটি!

আব্রাহাম লিংকন এর সেই বিখ্যাত উক্তির কথা তোমার মনে নাই? "হেরে যাওয়া মানে এখানেই শেষ নয়— যাত্রা আরও একটু দীর্ঘ হওয়া মাত্র"

প্লিইইজ মৃত্যুর আগে জিন্দা লাশ হয়ে মরে যেও না লক্ষ্মীটি!

বেলা ফুরাবার আগে ঝরে যেও না তুমি।হাজার বৎসর বেঁচে থাকো তুমি। 

আমি যদি পারতাম আমার হায়াত থেকে সব তোমাকে ঢেলে দিতাম🥺

আল্লাহ আমাকে সেই ক্ষমতা দেয় নাই কেন!!!

লক্ষ্মীটি!

হেরে যেয়ো না তুমি।

হেরে যাওয়া আমরা যদি বেঁচে না থাকি তাহলে গান কী করে সৃষ্টি হবে? 

হাহাকার নিয়ে কবিতা লিখবে কারা, কারা কাঁদবে রাত্তিরের নরম বুকে মুখ লুকিয়ে? কাদের মাথার উপরে পরম মমতায় জোৎস্না তার আলো বিলিয়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে আফসোস করে বলে উঠবে, ❝আহারে, আহারে❞...

[আগস্টের ফাগুন, ২০২৩]


Comments