কতদিন পূর্ণিমা রাত্রিরে বাঁশবনের মাথায় দেখা যায় না টোল পড়া গোল চাঁদ!

 

চারুলতা,

তোমার প্রেমে পড়ার পর আমি হয়ে উঠেছিলাম নিরাকার বিশুদ্ধতম কবি। মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের শেষ শিরা হতেও তোমার জন্য হৃদয় পুড়িয়ে লিখি নষ্টালজিক সব কবিতা, চিঠি,গান। ছোটখাটো ব্যাপারগুলোতেও ছিল দারুণ পাগলামি আমার। মায়া নিয়ে, ছাঁয়া নিয়ে সে প্রেম লাউ লতার মতো মনের করিডোর মাড়িয়ে, সিঁড়ি জানলা ছাড়িয়ে ভালোবাসা হয়ে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছিল আমার হৃদয়ের ছাদে বড্ড আদরে। চোখের ভেতর নয়তারা ফুলের মতো ফুটে ছিল অকৃত্রিম দারুণ স্বপ্ন ; একদিন আমরা আমাদের হবো সেই আশায় লক্ষ্মীটি!

আবেগ ছিলো, প্রেম ছিলো, যত্ন ছিল, জয় করার তীব্র চেষ্টাও ছিলো। শুধু ছিলো না ভাগ্যের উপর বিদাতার আশির্বাদ।ছিল না তোমাকে জানান দেয়া।

 নিয়তির খেলার কাছে হার মেনে গিয়েছে আজ সে প্রেম। হঠাৎ থেমে গিয়েছে আমরা কোথাও একজন মাঝ পথে। আমি শুধু দাঁড়িয়ে রইলাম ট্রেন শূন্য একটা প্লাটফর্মে, আর তুমি নতুন গন্তব্যের ট্রেনে ধরে চলে গিয়েছো বহুদূর। হায়!

বিশ্বাস করো লক্ষ্মীটি,

তারপর থেকে আমি আর কখনো কারোর জন্য কবিতা লিখতে পারিনি। রং তুলির হাতে পায়ে ধরেও আঁকতে পারিনি আর কোনো নতুন মুখের ছবি। একদিন যে হৃদয় পাহাড়সমেত বিশ্বাসে ছিল চিরসবুজ, সেখানে বাসা বাঁধলো অবিশ্বাসের করুণ ক্যান্সার। মাতৃগর্ভে মৃতু্বরণ করা অনাগত সন্তানের মত আমার আবেগ মরে যাচ্ছে দিন দিন। আমি কখনো কোন হাতের নরম আঙুলে রাখতে পারিনি আমার আঙুল। পিরিতের উপরে এত অরুচি আসলো যে স্বপ্ন ভাঙার ভয়ে নিজের পাশ ঘেষে বসতে দেইনি অন্য কোনো নারীকে।

 একটা অদৃশ্য বৃত্তে আটকা পড়েছি আমি, ওই বৃত্তের ভেতর পা রাখার সাহস কারোর নেই।

ঊর্মিমালা,

গভীর প্রেমে আমাদের মতো একতরফিক পুরুষরা একবারই পড়ে। গভীর প্রেম নিয়ে একজনের জন্যই কবিতা গান চিঠি লেখে তাঁরা। ছেড়ে গেলে ওই একজনের জন্যই পুরুষ জনমভর দুঃখ করে গোপনে অথবা প্রকাশ্যে। 

পরের বার যে প্রেম আসে তার কাছে মানুষ কেবলই সামান্য আশ্রয় খোঁজে, শান্তি খুঁজে, সর্বোচ্চ দিয়ে আকঁড়ে ধরে বাঁচতে চেষ্টা করে।

প্রেমে আমি একবারই পড়েছি। ভালো আমি তোমাকেই বেসেছি।

 তুমি চলে যাবার পর নতুন করে দ্বিতীয় আর কোন প্রেমের বৃষ্টি আমাকে ভিঁজাতে পারেনি। অনেকটা জীবনান্দের কবিতার বিখ্যাত সেই দু'টি লাইনের মতো “এই পৃথিবী একবার পায় তারে, পায় নাকো আর।"

তুমি আবার আমার সেই প্রেম হয়ো লক্ষ্মীটি!

আমি তোমাকে আর কোথাও যেতে দিবো না আর তুমি আমাকে সর্বোচ্চ দিয়ে আঁকড়ে রেখো, আঁকড়ে রেখো...”

[০৪-১০-২০২৩]

Comments