পাতালপুরীতে পড়ে আছে নিঃসঙ্গ কয়েদী...

ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ,

বনালা একখান কুকুর দুইদিন না খাইয়্যা ক্ষুধার যন্ত্রণা লইয়্যা যেমন কইরা অসহায় দুইডা চোখে আসমানের দিকে ফ্যালফ্যাল কইরা মায়ার দিয়া চাইয়া থাকে; তোমার চইলা যাওয়া পথের দিকে আমারে তেমন চাওয়াইয়্যা রাখিয়ো না আর।

ডাকাইত যেমন কইরা দিনে-দুপুরে খুন খারাপি কইরা রাস্তার পাশে লাশ ফালাইয়া চইলা যায়, তেমন কইরা তুমি  আমার মনডারে খুন কইরা চইলা যাইয়ো না আর।

স্বর্ণলতা,

তোমার দিকে আমি অহল্যা হইয়্যা চাইয়া থাহি, যেমনটা শত শতাব্দী ধইরা চাইয়্যা থাকে পাঁজরের ভেতর ভগ্নহৃদয় লইয়্যা মানবকূল, যেমনটা চাইসে জীবনানন্দ তাঁর বনলতা সেনের লাইজ্ঞা।
পরাণ ফুরানো ডানা ভাঙ্গা পক্ষির লাহাইন আমারে ছটফট কইরা কাঁন্দাইয়ো না; তুমি শিমুল তুলার মতো মন লইয়্যা মায়া কইরা একবার হইলেও ফিরা তাঁকাইয়ো।
আমি জানি একদিন তুমি তাকাইবাই...

তোমারে না পাইলে যদ্দূর কলিজাটা পুড়বো; তাহার চাইতেও বেশি পুড়বো তোমারে ঠিকঠাক কইরা গুছাইয়া কেন মনের গহীনের অনুভূতিগুলা বুঝাইতে পারি না তাঁর লাইগা। 
হয়তো এডা গল্প না। অনুভূতিগুলো হয়তো এইরকমই অয়। গুছানো যায় না।

মায়াবতী,

তুমিও হয়তো বুইঝা ডুব মারো পাঁজরের নীহারিকায় যেমনটা ডলফিন সমুদ্রের গহীনতা বুঝে, মাগার যাইতে চায় না।
কিন্তু তুমি এটা ঠিকই বুঝো,
- কেন ফাল্গুনে ফুল ফোঁটে!
- কেন রাত্তিরে আসমানে চাঁন ওঠে!
- কেন বসন্তরে পাইয়া কোকিল গান গায়!
- কেন বৃষ্টিতে পাইয়্যা খরা উঠা রুক্ষ জমিনডা সতেজ হইয়্যা উঠে।
.
- বুঝো, বর্ষারে পাইয়া আকাশ কেন কাঁন্দে। 
- নদীর বুকে হারাইতে হারাইতেও কেন সূর্য হাসে,
- শীতের বাতাসে কেন শুষ্কতার বিরহ ভাসে। 

তুমি তামাম দুনিয়ার বেবাক রহস্য বুঝো; শুধু 'আমি' নামক মানুষটারে বুঝেও বুঝো না।
না আমি আমার পিরিত বুঝাইতে পারলাম, না আবেগ শুনাইতে পারলাম, রক্তক্ষরণ দেখলা না ভিত্রের...

আফসোস হয় আমার!
তোমারে আমার লাগবোই লাগবো কথাখান আগেই ঠিকঠাক বুইঝাইতে পারলে জানি তুমি আমারে কদ্দূর ভালোবাসতা, আমার দিকে হরিণী চোক্ষোদ্বয় মেইল্ল্যা মায়া কইরা চাইয়্যা থাকতা, বুকে জড়ায়া নিতা!

জানো ঢেউ,

তোমার অভাবখান আমারে এতই দরিদ্র কইরা দিতাছে যে তামাম দুনিয়ার রংতামাশা আমার কাছে তুচ্ছ লাগে এহন…
সামনে HSC, বিশ্বাস করো, একটুও ফিলিংস নাই পরীক্ষার।
যা পারি তাই খোদার উপর তাওয়াক্কুল রাইখ্যা দিব। প্রতিদিন সেই রাত্রিরে টিউশন করাইয়া গভীর রাত্রিরে হোস্টেলে ফিরি তোমার দিক চাইয়্যা যাতে তুমি ফিরা আসো বিচ্ছেদের অনলে না পুইড়া।
টিউশন শেষে টংয়ের দোকানে লুকাইয়া লুকাইয়া তোমার মায়াবী চাহনী দেখি আর চা'য়ের কাপে চুমুক দিয়ে চিন্তা করি কিভাবে পারো তুমি প্রতিদিন এভাবে আমারে অসহায় বানাইয়া থাকতে! :'((

রাস্তায় হাঁটলে হঠাৎ বৃষ্টি দেইখা নয়া জলের লোভে ডাঙায় উইঠা আসা একটা কৈ মাছকে যেমন দেখও জলের অভাবে ডুকরে ডুকরে মইরা যায়, তোমারে না পাইয়া আমি তেমন নিজের ভিতরে নিজে মইরা যাইতেসি দিনদিন। জন্মের মরা মইরা যাইতেসি গো।

জানো ঊর্মিমালা, 

দুনিয়ার বেবাক অভাবই বিলীন হইয়্যা যায় একদিন।
আইজ যে ডাইলভাঁজা খায় কাল সে পোলাও খায়, আইজ যে বেকার কাইল সে চাকরিজীবী, আইজ যেই নারী নিঃসন্তান, কাইল তার কোলে ফুটফুটে দত্তক সন্তান। 

সব অভাব একদিন গুইছা গেলেও, শুধু একদিন যারে আকুমিনতি কইরা চাইবার পরেও পাওন হয় না, তার অভাবখান মরণের আগ অব্দি গোছে না গো।

তামাম দুনিয়ার বেবা-ক কিছুর বিকল্প থাকলেও থাকবার পারে, কিন্তু তোমার কোনো বিকল্প নাই! 
আমি আর কাউরে ভালোবাসতে পারুম না। 
আঠরো বৎসরের জীবনে কাউরে দেখি নাই। ভালোও লাগে না। সব পাখি নীড়পাতায় বসবাসরত।
তুমিই হেই একখান পাখি, যেঁ উড়ার পরেও আমি প্রজাপতি হইয়্যা বিদ্রোহ করি।
জানি একদিন আসবে ফিরে, অপেক্ষায়....

[০৮/০৮/২০২৩]

Comments

Post a Comment