তোমার ছুঁয়া পেলে আমি জল হয়ে যাই, বরফের চেয়েও দ্রুত গলে যাই...

ঢেউ গো,

ভালোবাসায় উত্থানে আবার তোমারে ভালোবাইসা আমি কেমন দিওয়ানা হইয়্যা গেছি। সুঁতার রোলের লাহান প্যাঁছাইয়া যাই তোমার হাতে-পায়ে নাকে চোখে মুখে শইলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সারাডাক্ষণ বাইন্ধা রাখবার চাই আমার মায়ার রশিতে গিট্টু দিয়া। এক ছ'টাকও চোক্ষের আড়াল হইবার দিবার চাই না। 

এর মানে এই না যে তোমারে ভরসা করি। তুমি আমার আছো এই ভাবনাখান আমারে যত্তবেশি সুখ দেয়; ঠিক ততবেশী গলা চাইপা ধরে তোমারে হারাইয়া ফেলার ভয়।

তিলোত্তমা,

তোমারে ভালোবাসার পর আমার মনে হয়, তুমি চোক্ষের আড়াল হইলেই হারাইয়া যাইবা, অন্য নদীতে সাঁতার কাঁটবা, এমন অহেতুক চিন্তায় বুকের ভিতরে হুঁহুঁ কইরা কাঁইন্দা ওঠে বারবার।

তোমারে ভালোবাইসা আমি কেমন ছেলেমানুষ হইয়্যা গেছি। তুমি একচিমটি ভালোবাসলে বা মায়া দেখালেই সুখের বাঁশি বাজে পরাণে। ঝাঁকে ঝাঁকে মনের আসমানে উড়াউড়ি করে শৌখিন সুখের কবুতর।

আউশ ধানের সবুজ পাতা নরম হাওয়াতে যেমন দুলে, তোমার সুখের বাতাসে আমার ছেলেমানুষি হৃদয়খান অমন করিয়া দুলে। 

নিজেরে তহন মনে অয় দুনিয়ার সবচে সুখী মানুষ। তোমার ঠোঁটের খিল খিল টোল পড়া হাসিতে ফুটতে থাকি বিন্নিধানের খৈয়ের মত সারাটা দিন।

আবার সে তুমিই যহন সামান্য হেয়ালি করো; মাছের কাঁটার লাহাইন ছোট ছোট অবহেলা বাড়ায়া দেন, হেই অবহেলা আমার গলায় না আঁটকাইয়া আটকায় গিয়া সইসই বুকে। বুকের ভিতরে কি যে জ্বালা হয় গো, আহ!

দুই নয়নে নাইমা আসে বৃষ্টি, মনের বনের উপর দিয়া বইয়া যায় সর্বনাশা কালবৈশাখী ভাঙচুর ঝড়। 

তোমারে কেমনে বুঝাই!

তোমারে হারাইয়া ফেলার ভয়ে আমি খালি চিনিগুড়ে এপ্টে গিয়ে চেপ্টে যাওয়া পিঁপড়ার লাহাইন আঁটকাইয়া থাকবার চাই তোমার সব কিছুতে।

প্রণয়ীনি,

আমার ধ্যান-জ্ঞানে, স্বয়নে স্বপনে শুধু তুমিই থাকো। আমার চোখ দুইডা পরাণ ভইরা শুধুই তোমারে দেখে। জগতের সব হাতরে আমি ফিরায়া দেই শুধু তোমার হাতখানা জনমের মত ধরবো ভাইবা।


ঝগড়া-ঝাটি হইলে আমি নিজেই পইলা ক্ষমা চাই। তোমার পাওনের লোভের কাছে হার মাইনা যায় আমার অভিমান। এমন হাজার বার আমি হাইরা গিয়া তোমারে জিতাইয়া দিবার চাই; শুধু তোমারে হারাইতে চাই না। :'((

জানো লক্ষ্মীটি!

তোমার একটা তিল পরিমাণ কথা নিয়া ভাইবাও আমার উইড়া যায় চোখের ঘুম। অতি তুচ্ছ খটকা লাগা কথাতেরও সইত্য ভাইবা আমি মনের ভিতরে জমাই কালো মেঘ। নিজেই নিজের ভিতরে জ্বইলা পুইড়া জন্মমের মরা মরি। অথচ দেহো তুমি এসবের কিছুই তেমন জানো না, বুঝোন না! :'))

আমি চাই আমার অভিমান হইলে সবসম তুমি আমারে কদ্দুর জিগাও কি হইছে আমার? 

আমার ভয়টা কই? 

কেন আমি তোমার দ্বিধায় পুড়ে যাই? আমার সমস্যা কী?

কেন তুমি সাজগোছ বন্ধ করে দিছো?

কেন আর আগের মতো মনখুলে খুশি থাকো না?

কেন আমার চেয়েও প্রাক্তনরে ভালবাসো? :'((

এইসব ভাইব্বা ধুঁইক্ক্যা ধুঁইক্ক্যা আমি যাইতেসি মইরা।

একেবারে জনমের মরা।

আমায় জিজ্ঞেস করো একদিন লক্ষ্মীটি! বুকের ভিতরে ভাঙচুর করা গোপন দ্বিধার কথা তোমারে তখন জানামু আমি।

আমি চাই তুমি আমারে বুকের মইধ্যে জড়াইয়া ধইরা বলো, "আমি এইসব যা ভাবি তা ভুল, সব মিথ্যা।”

সত্য হইলো তুমি শুধু আমারেই ভালোবাসো, এমন কইরাই ভালোবাইসা যাবা আমার পাশে থাইকা আমৃত্যু। আমি তহন দ্বিধায় ভুলে চোখের জল মুইছা আবার খিল খিল কইরা হাইসা উঠবো, আমি তহন আবার তোমার মনের বাগান বিলাশের ঢালে ঢালে লক্ষ কোটি ফুল হইয়া ফুটবো।


“আমি এই পৃথিবীর লাইজ্ঞা প্রচণ্ড অপ্রস্তত। 

আমার এখনো হাত কাঁপে।
আমি ছোটবেলায়ই অনেক বড় ছিলাম, এহন বড়বেলায় অনেক ছোট হইয়্যা গেছি।
কর্পূরের মতো ধীরে ধীরে জীবন থেকে হারাইয়া যাইতেছি আমি।
আমায় তুমি ফুরাইয়া লইয়ো ফুরিয়ে যাওয়ার আগে।”

[০২ ফেব্রুয়ারি,২০২৫]



Comments