তোমার এই বিষণ্নতার ক্ষণ আর কতদিন...

কেন তুমি এরকম হঠাৎ ভেঙ্গে পরে আমাকে কষ্ট দাও!

কেন কারণে-অকারণে অক্টোবরের আকাশ বানাই ফেলো সুশ্রী চেহারাটাকে!

এতে তুমি কারণ না বললে আমার ভয় হয়।

ভয় হয় না জানি...

- কেউ বকা দিছে!

- আবার কি বিয়ের প্রস্তাব এসে তোমার মন বিষন্ন করালো!

- অতীতের কোনো বোঝ এসে পাহাড়সম ভারী করে দেয় মনকে?

- নাকি আমি তোমায় ছাড়া অন্য কোনো নারীর প্রতি আকৃষ্ট যার কারণে এভাবে অভিমান করো! :'(

যদি শেষেরটি হয় লক্ষ্মীটি, আমি তোমাকে বলতে চাই তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা কাফনের কাপড়। কাফনের কাপড় একবার পরে ফেললে যেমন আর খুলে ফেলার সুযোগ নেই, তোমাকেও আমি না ভালোবেসে থাকতে পারি না গো—

সে হিশেবে অন্য নারীর কথা তো ভুলেও খেয়ালে আসে না।

আর যদি অতীতের বুঝ এসে নাড়া দেয়!যদি কখনো মনে হয়, আমার চেয়েও বেশি কাউকে ভালোবাসো। তবে আমি খুউউব ভেঙ্গে পড়বো লক্ষ্মীটি!

যদিও তোমার ভালোবাসা লোক দেখিয়ে বা জোর করে কষ্ট দিয়ে পাওয়া সম্ভব না, সে তো নিষ্ঠুর প্রেমিকদের কাজ।

তবুও আমি কষ্ট পাবো লক্ষ্মীটি!

অতীতের বোঝ মন থেকে ঝেড়ে ফেলে হাসিখুশি থাকতে শিখো।

আমার নিকটে শুধু দুই ঠোঁট নাড়া দিয়ে বাহ্যিকভাবে খুশি আছো - ঐ খুশি দেখানোর চেয়ে আমার মৃত্যু হোক।

তুমি বরং মন থেকে খুশি থাকো লক্ষ্মীটি, এই আমার আজন্মের দো'আ!

তবুও ভালো থাকার অভিনয় করো না।

আমি কিন্তু ঠিক টের পেয়ে যাবো।

আর তোমার ভালো না থাকা টের পেয়ে গেলে হৃদয়ে আবারো রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে থেমে যাবে আমার জাগতিক সব কাজকর্ম, অকেজো হয়ে যাবে আমার দেহ।

আর ক্ষত করো না আমার হৃদয়কে।  টেনশনে টেনশনে হার্টের করোটিকা পর্যন্ত আজ বিপর্যস্ত, চুলগুলো শুভ্র, দেহ শীর্ণ, মস্তিষ্ক সারা জাহানের টেনশনের ভার।


চাইলেই তো তোমার মতো অনেককিছুই পারি আমি— 

তুমি যা পারো তার চেয়ে বেশি কিছু।

আমারে যে ক'ফোটা দুঃখ তুমি দাও, চাইলেই তার চেয়ে বেশি দুঃখ আমি তোমায় ফিরিয়ে দিতে পারি। সবার চিরচেনা শান্ত স্বভাব ভুলে চাইলেই হতে পারি তোমার নামের মতোই অশান্ত সমুদ্রের ঢেউ, ওই ঢেউয়ের ক্ষে’পাটে থাবায় লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারি তোমার চেনা জগত।

কিন্তু আমি করতে চেয়েও পারি কই?

ভালোবেসে যে বন্দি হয়ে আছি তোমার মায়ায়। করতে গেলেই আমার হাত থমকে ধরে তোমার প্রতি আদর/মায়া/ভালোবাসার একশ হাত।


চাইলেই অনেককিছুই পারি আমি—

তুমি যা পারো তার চেয়ে বেশি কিছু।

বরফের মতো ঠাণ্ডা মেজাজে যে তোমাকে আমি ভালোবাসি, সেই তোমাকে তুমুল রাগে কাঁচের গ্লাসের মত ভেঙে করতে পারি চূর্ণচূর্ণ, হতে পারি পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ কুৎসিত ব্যবহার করা মানুষও। লুটপাট করে নিতে পারি তোমার জীবনের সমস্ত শান্তি, সুখ।


চাইলে অনেক কিছুই পারি আমি— 

তুমি যা পারো তারচেয়ে বেশি কিছু।

চাইলেই আমিও তোমার নাকে, মুখে,চোখে মেখে দিতে পারি দোষের কলঙ্ক, তোমার পা হতে মাথা পর্যন্ত খুঁজে বের করতে পারি অসংখ্য ভুল। ছুঁড়ে দিতে পারি তোমার ছোঁড়া তীরের জবাবে পাল্টা প্রতিশোধের ধারালো খঞ্জর।

চোখের উপর ঠেসে ধরতে পারি বিদ্রুপের হাসি, বন্ধ করতে পারি শত অভিমান সত্ত্বেও তোমার কেয়ার করা, পাশে থেকে উৎসাহ দেয়া, কানের ভিতর খচখচ করে ঢুকিয়ে দিতে পারি দুঃসংবাদ, কপালে স্টাম্প মেরে নিমিষেই লিখে দিতে পারি তুমি আমার কেউ না।

অথচ আমি ওসব কিছুই করি না। 

কারণ, কারো (বরং তোমার) চোখে জল দেখতে ভালো লাগে না, ভালো লাগে না কারো মন খারাপ। আমি শান্ত থাকি, আমি সয়ে যাই নিরবে, ক্ষয়ে যাই গোপনে, রয়ে যাই অবহেলাতে। 

আমারও মন ভাঙে, আমারও চোখে জল আসে। আমি যন্ত্র না, যন্ত্রণা আমারও হয়।

প্রত্যেকদিন তোমার মস্তিষ্কে ঢেউখেলা শত দুশ্চিন্তা শেয়ারেটের মতো আমার মস্তিষ্কে এসে আমায় ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলে রে!!

তুমি জানো সুখই মানুষ শেয়ারে নেয়, যদি জানতা তোমার প্রতিটা দুঃখে আমি ভেঙ্গে পরি, কষ্ট পাই তাইলে কি করতা!

সুখরে বহুতরফা দেখলে, নিজের দুঃখরে কেন একতরফাভাবে দেখো! 


আমি যদি নিশ্চিত হতে পারতাম যে অবশেষে আমি তোমাকে পেয়ে যাবো। 

তোমার চলে যাওয়া পথের কসম— 

দুনিয়াবিদ যাবতীয় ঝড়তুফান উপেক্ষা করে হলেও আমি সারা জীবন তোমার জন্য সেই পথে অপেক্ষা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম পাগলি আমার!

.

ওতে যদি আমার বয়স রঙ হারায়, যদি আমার জীবনও ফুরায়, ওতে যদি মৃত্যুও এসে দুয়ারে দাঁড়ায়।

— তবুও...




Comments