তোমাকে সময় দিতে কত ঘোর তপস্যা, না মেনেছি শীত আর না অমাবস্যা...
ইচ্ছে করে—
একদিন তোমারে রান্না কইরা খাওয়াই আমার সবচেয়ে পছন্দের তরকারিটা; সাথে কুমকুম গরম কাগজি লেবুর চা।
ইচ্ছে করে—
তোমার সাথে একদিন রাগটাগ দেখাইয়া চইলা যাই অন্য ঋতুর দেশে, রাগ কমে গেলে চিঠি লিখে জানাই, তোমারে ছাড়া দুনিয়ার কোথাও শান্তি নাই। বাড়ি ফিরার পথে নিয়া আসি তোমার পছন্দের কবিতার বই। সিনেমার প্রেমের মত চুমু খাই লজ্জা শরম সব ভুইলা।
ইচ্ছে করে—
আম্মারে আর তোমারে লইয়্যা যাই ইউরোপের অট্টালিকার পাড়ের কোনো শপিং মলে মৃদুমন্দ ঠাণ্ডার সন্ধ্যায় আর কিন্না দেই দুনিয়ার বেবাক কিছু।
তোমরা খালি লইবা যা মন চায় আর আমি চাইয়্যা চাইয়্যা দেহুম।
কেনাকাটা শেষে ভরা জ্যোৎস্নার আলোতে নদীর পাড়ে যাই ডিনার করতে।
তুমি খাইবা আর চাইয়্যা চাইয়্যা দেহুম।
ইচ্ছে করে—
একদিন তোমারে নিজ হাতে সাজাই বনের হলুদে পাখির মতো এমন এলোমেলো- যেনো হাওয়ার ভয়ে কাঁপতে থাকা লালচে মেহগনির পাতার মত তোমার স্পর্শ পাইতে আঙুলের ডগায় বইসা হুঁ-হুঁ কইরা কাঁপতে থাকে হৃদয়।
ইচ্ছে করে—
নানান কায়দায় তোমারে চমকায়া দেই আনাড়ি সব কাণ্ড করে। মাঝ রাতে দেখার আবদার নিয়ে বাড়ির সমানে দাড়ায় থাকি, হড়হড় কইরা জসিম উদ্দীনের কবর কবিতা বলি, বাঁ তোমার পুরোনো কোন জামার ফুলের রঙ নিখুঁত মনে রাখি।
ইচ্ছা করে—
দুপুরে ভাত ঘুমের আগে যে গানটা শুনি, তোমারে গেয়ে শুনাই সেই গানের কয়েকটা লাইন। তারপর স্বীকার করি; রাতের আঁধার আমার আর ভয় লাগে না তুমি চোখে কাজল দিলে।
ইচ্ছা করে—
প্রবল জ্বরের রাইতে তোমার চোখে চোখ রাইখা একটা সিগারেট খাই। সিগারেট খাইতে খাইতে তোমারে বলি, পাখি অথবা মানুষ প্রত্যেকেই ভয় পায় ঝড়। প্রত্যেকেরই লাগে একটা নিরাপদ বুক, একটা ঘর।
ইচ্ছা করে—
মায়ের তুলে রাখা চিনির প্লেটের মতো পাশাপাশি সংসার করি, পুরান কোন দুঃখ মাথাচাড়া দিয়া উঠলেই ট্রেনের টিকিট কেটে তোমারে নিয়া চইলা যাই পাহাড় দেখতে। একই আলমারিতে কাপড় রাখি, ছু্টির দিনে একসাথে ঘর গোছাই, একটা বালিশ ভাগাভাগি করে ঘুমাই, এক পাটিতে বইসা দুইজনে মিল্ল্যা ভাত খাই।
ইচ্ছা করে—
অনেকদিন পর হওয়া সাক্ষাৎ-এ তোমারে এমন বেকুল হইয়া জড়ায়া ধরি, এমনভাবে ঝাপাইয়া পড়ি বুকে— যেনো তুমি ট্যার পাও আমার মনে তুমি ছাড়া আর কেউ নাই, তোমার অনুপস্থিতিতে আমার মনে বাসা বাঁধে নাই কোন পরকীয়া প্রেম।
কতোদিনই বা আর বাঁচি আমরা কও?
কত্তো ক্ষুদ্র যাত্রার জীবন আমরার।
অথচ দেহো, তবু এ ক্ষুদ্র জীবনে আমডার অপ্রাপ্তির শেষ নাই। অপ্রাপ্তির খাতাটা এত লম্বা আর ভারি যে বইতে গিয়েও আজকাল হাঁপাইয়া যাই।
এই ক্ষুদ্র জীবনে কী এমন হইত তোমারে পাইয়া গেলে?
ভালো তো এখনও বাসি- তহন না হয় আরেকটু বেশী ভালোবাসতাম। না পাওয়ার বেদনায় তো এহনও কান্দি, তখন না হয় পাওয়ার আনন্দে আরেকটু বেশী কইরা কাইন্দা নিতাম।
একটু না হয় বুঝতে চেষ্টা করতাম, শখের জিনিস পাইয়া গেলে জীবন কেমন লাগে? কেমন অনুভব হয় বুকের ভিতর। ঠোঁটে আগায় ভীড় করে কোন সে সুখের গান?
তুমি কি কহনো আমার হবা না,ঊর্মিমালা?



Comments
Post a Comment